রাধাবল্লভীর উৎস সন্ধানে

রাধাবল্লভীর উৎস সন্ধানে 
ঠাকুরের ভোগের থেকে শুরু করে বর্তমানে ভোজন রসিক বাঙালির যে কোনো অনুষ্ঠানের স্টার্টার, সর্বত্র যার অবাধ বিচরণ সে হল আমাদের অতি প্রিয় রাধাবল্লভী। কিন্তু রাধাবল্লভী এরকম নাম করণের হেতু কী? অথবা লুচী, ডালপুরীর সাথে এই রাধাবল্লভীর তফাৎ কী? আম বাঙালীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তবে এর সদুত্তর মেলা মুশকিল। তবে চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক রাধাবল্লভীর সাত সতেরো।

 ফুলকো লুচির মত নয়, কচুরির মতো মুচমুচে নয় আবার পরোটার মতো খাস্তাও নয়। আয়তনে লুচির চেয়ে  কিছুটা বড় ও গোল। ছিঁড়ে মুখে দেওয়ার সময়ে নরম ও মোলায়েম অনুভূতি হবে, রং হবে সাদাটে, আবার লুচির মতো ধবধবে সাদা না। ভিতরে মুগ বা বিউলির ডালের পুর ভেজে দিতে হবে। রাধাবল্লভীর ডালের পুর পুরোপুরি মিহি হবে না, মুখে মাঝেমধ্যে কচ কচ করবে এখানেই ডালপুরি ও রাধাবল্লভীর তফাৎ।   

রাধাবল্লভীর নামকরণের ইতিহাস অনেকটাই রহস্যাবৃত। রাধাবল্লভীর নামকরণ ও ইতিহাস নিয়ে মূলত তিনটি মিথ প্রচলিত রয়েছে। আমরা সেই তিনটে মিথই আপনাদের সামনে তুলে ধরব। 


আটা ও ময়দাকে যবনদের খাদ্য বলে মনে করা হত, একারণে আদা-ময়দা থেকে প্রস্তুত খাদ্য এই কদিন আগেও সরাসরি ভগবানকে ভোগ দেওয়া হত না। সবথেকে প্রচলিত মতটি অনুসারে এইকারণে কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়িতে তাদের গৃহদেবতা রাধাবল্লভজীকে ময়দা থেকে ডালের পুর দিয়ে প্রস্তুত করা পুরী ঘি এর দ্বারা শুদ্ধ করে ভোগ হিসেবে পুজোয় দেওয়া হত, তার থেকেই 'রাধাবল্লভী' নামকরণ। 


কিছু কিছু গবেষক আবার মনে করেন মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির সিংহ রাজবাড়ির কুলদেবতা রাধাবল্লভকে ওই ভোগ দেওয়া হত বলে নাম রাধাবল্লভী হয়েছে।

অনেকে আবার মনে করেন, খড়দহের শ্যামসুন্দরের জন্য মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেব রাধাবল্লভী প্রথম রান্না করেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম ‘রাধাবল্লভ’। সেই সূত্রে মহাপ্রভুই এই খাবারের নাম রাখেন ‘রাধাবল্লভী’ রাখেন বলে গবেষকদের একাংশের অনুমান।

রাধাবল্লভীর জন্ম নিয়ে এমনই নানা মতমত প্রচলিত রয়েছে। তবে ভরসার কথা হল এই যে, তার স্বাদ গ্রহণ করা নিয়ে অন্তত রসিক বাঙালির মনে কোনও দ্বিধা নেই। 

Comments